ইসলাম ও জীবননামাজ

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ আগামীকাল ২২ মার্চ রোববার

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ আগামীকাল ২২ মার্চ (২৬ রজব) রোববার দিবাগত রাতে পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় নতুন বছর গণনা শুরু হয় এবং পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ এর দিন ২২ মার্চ ২০২০ হিসেবে বের করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

আমাদের দেশে লাইলাতুল মেরাজের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি।

তথ্যমতে বছর শুরুর চাঁদ দেখা কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪১ হিজরির রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আজ (মঙ্গলবার) জামাদিউস সানি মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। কাল বুধবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২২ মার্চ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত হবে।

আরবি শব্দ ‘লাইলাতুল’ অর্থ রাত, আর ‘মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। এ বছর সেই রাতটি পড়েছে আগামী ২২ মার্চ।

লাইলাতুল মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই মূল্যবান রাত কাটান। অনেকে নফল রোজাও রাখেন এ দিন।

শবে মেরাজেই নামাজ ফরজ করা হয় মুসলমানদের ওপর। এজন্য রাতটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে উপমহাদেশে।

রজব মাস শুরুর মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজানের দিনক্ষণ গণনা শুরু হয়। এর ঠিক দুই মাস পর শুরু হয় রমজান। এজন্য রজব মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা রমজানের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

মেরাজ রজনীর গুরুত্বঃ

সর্বশেষ নবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) এর ২৩ বছরের নবুওয়তি জীবনের অন্যতম অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো “মেরাজ”। মেরাজে গমন করে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশসহ ইসলামী সমাজ পরিচালনার বিধি-বিধান নিয়ে আসেন। প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) বিশ্ব মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবন ব্যবস্থা হিসেবে রূপ দেয়ার জন্য তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেয়েছিলেন মেরাজ রজনীতে। এ জন্য এ রাতটি মুসলমানদের কাছে অতীব গুরুপূর্ণ রাত।

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত, ইসলাম ধর্মমতে যে রাতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামায মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক অর্থাৎ (ফরজ) নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়।

Tags
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close