লাইফ স্টাইলজাতীয়
Trending

যেভাবে ই-পাসপোর্ট করবেন খুব সহজেই

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কিংবা ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের কার্যক্রম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে ২০২০ সালের ২২শে জানুয়ারি এই কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

যেভাবে ই-পাসপোর্ট করবেন খুব সহজেই আসুন জেনে নেই।

উদ্বোধনের পর থেকেই ই-পাসপোর্টের আবেদনসহ যাবতীয় সকল বিষয় নিয়ে অনেকেই দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন। ভোগাটাও স্বাভাবিক কারণ, ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সুস্পষ্ট তথ্য আমরা সব জায়গায় পাই না।

যেভাবে ই-পাসপোর্ট করবেন খুব সহজেই কোন রকম দালাল ছাড়া নিজে নিজেই। আজকে আপনাদেরকে নতুন ই-পাসপোর্ট কিভাবে বানাবেন তার সম্পূর্ণ তথ্য দিব যাতে করে খুব সহজে নিজেই আবেদন করা থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত কাজটি করতে পারেন কোনরকম ঝামেলা ছাড়া।

ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার ধাপ সমূহঃ

১. অনলাইনে আবেদন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া।

প্রথমে ই-পাসপোর্টের ( https://epassport.gov.bd/ ) এই ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনাকে “Apply Online for e‑Passport” অপশনটির নিচে থাকা “Directly to online application” এ ক্লিক করে সেখানে যাবতীয় তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর আপনার ই-মেইলে একটি কনফার্মেশন মেইল যাবে। সেই মেইলে আপনার একাউন্ট তৈরীর একটি অ্যাকটিভেশন লিংক দেওয়া থাকবে যাতে ক্লিক করার পর আপনার অ্যাকাউন্টটি অ্যাকটিভ হবে এবং এপ্লাই করার জন্য প্রস্তুত হবে। মেইলটি ইনবক্সে খুঁজে না পেলে “জাংক/স্প্যাম” ফোল্ডারে পেয়ে যাবেন। কখনো কখনো একটু সময় লাগতে পারে একটিভেশন মেইল পেতে, তাই অপেক্ষা করুন।

নোটঃ ধরুন, আপনি অ্যাকাউন্ট খুললেন কিন্তু এপ্লাই করলেন না, সেক্ষেত্রে তাদের ওয়েবসাইটে বলা আছে আপনার একাউন্টটি ২১ দিন পর অটোমেটিক্যালি ডিলিট হয়ে যাবে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি হয় না। দেখা যায়, আপনার অ্যাকাউন্ট ডিলিট হয়ে গেলেও আপনার দেওয়া সকল তথ্য তাদের সার্ভারে থেকে যায়। অর্থাৎ সেই তথ্যগুলো (এনআইডি নাম্বার, মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল) ব্যবহার করে আপনি নতুন করে আর কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না এবং আবেদন করতে পারবেন না। এইক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করতে আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আলাদাভাবে আবেদন দাখিল করতে হবে। তাই সাজেশন থাকবে কেবলমাত্র আবেদন করতে চাইলেই সকল তথ্যগুলো দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলবেন। আবেদন করার মেন্টালিটি না থাকলে অযথা অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না।

এবার আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে এক এক করে নির্ভুলভাবে সকল তথ্য দিয়ে আপনার আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

হুবহু এনআইডি অনুসরণ করে সকল তথ্য পূরণ করবেন, “ডট” থেকে শুরু করে “ঠিকানা”পর্যন্ত যা যা আছে সব কিছুই। এতে আপনার পাসপোর্ট করা খুবই সহজ হয়ে যাবে।

আবেদন সম্পন্ন হলে আপনার ৩ পৃষ্ঠার আবেদন ফর্মটি একাউন্ট এ এবং ইমেইলে দুই যায়গাতেই পেয়ে যাবেন। এবার এটি ডাওনলোড করে QR কোড সহ প্রিন্ট করে নিন। সাথে সামারি পেজ টি ও প্রিন্ট করে নিন যেখানে আপনার শিডিউল এর বিস্তারিত দেয়া থাকে।


আরোও পড়ুনঃ কিভাবে ইমিগ্রান্ট বা শিক্ষার্থী হিসাবে কানাডায় যেতে পারেন


২. পেমেন্ট।

আবেদন সম্পন্ন করার পরের ধাপ হচ্ছে পেমেন্ট সিলেকশন। পেমেন্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে আপনি দুটি অপশন পাবেন, একটি “অনলাইন পেমেন্ট” যেটি আপাতত বন্ধ আছে। আরেকটি “অফলাইন পেমেন্ট” অর্থাৎ আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

খুব সহজেই ব্যাংকে গিয়ে আপনার আবেদনের ধরণ অনুযায়ী টাকা জমা দিয়ে আসুন। চাইলে সোনালী ব্যাংক এর এপ্স এর মাধ্যমে বিকাশ এর সাহায্যেও দিতে পারেন তবে সরাসরি ব্যাংক এ দেয়াই ভালো।

নোটঃ ব্যাংক এ কোন কাগজ নিয়ে যেতে হয় না, তবে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে মিলিয়ে আপনার নাম লিখুন। ব্যাংক এ আপনাকে এটা চেক করতে বলা হবে।

যেসকল ব্যাংকে ই-পাসপোর্টের ফি জমা নেয়া হয়ঃ

১. ওয়ান ব্যাংক
২. ব্যাংক এশিয়া
৩. সোনালী ব্যাংক
৪. প্রিমিয়ার ব্যাংক
৫. ট্রাস্ট ব্যাংক
৬. ঢাকা ব্যাংক

ই-পাসপোর্টের যাবতীয় ফিঃ

৪৮ পেইজ, মেয়াদঃ ৫ বছর।

রেগুলারঃ ৪,০২৫ টাকা, ২১ কার্য দিবসে।
এক্সপেসঃ ৬,৩২৫ টাকা, ১০ কার্য দিবসে।
সুপার এক্সপ্রেসঃ ৮,৬২৫ টাকা, ২ কার্য দিবসে।

৪৮ পেইজ, মেয়াদঃ ১০ বছর।

রেগুলারঃ ৫,৭৫০ টাকা, ২১ কার্য দিবসে।
এক্সপেসঃ ৮,০৫০ টাকা, ১০ কার্য দিবসে।
সুপার এক্সপ্রেসঃ ১০,৩৫০ টাকা, ২ কার্য দিবসে।

৬৪ পেইজ, মেয়াদঃ ৫ বছর।

রেগুলারঃ ৬,৩২৫ টাকা, ২১ কার্য দিবসে।
এক্সপেসঃ ৮,৬২৫ টাকা, ১০ কার্য দিবসে।
সুপার এক্সপ্রেসঃ ১২,০৭৫ টাকা, ২ কার্য দিবসে।

৬৪ পেইজ, মেয়াদঃ ১০ বছর।

রেগুলারঃ ৮,০৫০ টাকা, ২১ কার্য দিবসে।
এক্সপেসঃ ১০,৩৫০ টাকা, ১০ কার্য দিবসে।
সুপার এক্সপ্রেসঃ ১৩,৮০০ টাকা, ২ কার্য দিবসে।

৩. পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিকসহ বাকি কাজ সম্পন্ন

পেমেন্ট সিলেকশনের পরের ধাপ হচ্ছে “এপয়েন্টমেন্ট নেওয়া”। অর্থাৎ আপনি কোন দিন, কোন সময়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত থেকে সকল কাগজপত্র জমা দিতে চান সেটির একটি এপয়েন্টমেন্ট নেওয়া লাগে। যা আপনি আবেদন করার সময় ই সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

ব্যাংক এ টাকা জমা দেয়ার পর আপনার সকল কাগজ প্রিন্ট করা সহ ব্যাংক স্লিপ একত্রিত করে রেখে অপেক্ষা করুন শিডিউল এ যে তারিখ পেয়েছেন সেটার জন্য।
কি কি কাগজ রেডি করেছেন?
*সামারি পেজ/ শিডিউল পেজ
*৩ পেজ এর ফর্ম
* ফর্ম এর প্রথম পেজের ডানপাশে আঠা দিয়ে ব্যাংক স্লিপ লাগিয়ে নিন।
* আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র
*আপনার আইডি কার্ড শিক্ষার্থী বা চাকরিজীবী (সকল ক্ষেত্রে মেন্ডাটরি না তারপর ও চেয়ে থাকে)
*ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/ওয়াসা/টেলিফোন) তবে বিদ্যুৎ বিলটাই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।

আপনি বিবাহিত হলে অবশ্যই নিকাহ নামা সাথে নিবেন।

এগুলো একসাথে স্ট্যাপল করে অপেক্ষা করুন শিডিউল অনুযায়ী দিনে আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য।


আরোও পড়ুনঃ Thinking About IELTS? Follow This Series


এবার আপনার শিডিউল অনুযায়ী দিনে সকাল সকাল ই চলে যান আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। কারণ তারিখ ঠিক রেখে যেকোনো সময় ই যেতে পারবেন এতে করে আগে আগে কাজ শেষ করতে পারবেন। ধরুন আপনি ১৬ অক্টোবর এপয়েন্টমেন্ট নিলেন দুপুর ২ টা ১০ মিনিটে। আপনার RPO অর্থাৎ Regional Passport Office যদি আগারগাঁও হয়ে থাকে তাহলে বলবো সেখানে শুধুমাত্র ডেট ম্যাটার করে, টাইম ম্যাটার করে না। অর্থাৎ, আপনি যদি ১৬ অক্টোবর এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ১৬ অক্টোবরেই উপস্থিত থাকতে হবে। সময় ৯-৫টা।

আপনি কোনোভাবে ১৯ অক্টোবরে কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন না। কিন্তু আপনার এপয়েন্টমেন্ট টাইম যদি ১৬ অক্টোবর দুপর ১ টা ৩০ মিনিটে হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ১৬ অক্টোবর যে কোনো টাইমেই সেটি জমা দিতে পারবেন। যেমন, আমার এপয়েন্টমেন্ট টাইম ছিলো দুপুর ২ টা কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত হই সকাল ৯ টায় এবং সব কাজ শেষ করে বের হই দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিটে। তবে আপনি যদি কোনোভাবে ভীড়ের কারণে ১৬ অক্টোবরে কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে আপনি পরের দিন এসে কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন।

যেভাবে ই-পাসপোর্ট করবেন খুব সহজেই
যেভাবে ই-পাসপোর্ট করবেন খুব সহজেই

৪. পুলিশ ভেরিফিকেশন।

পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক সহ সকল কাজ সম্পন্ন হবার সাথে সাথেই আপনার তথ্য চলে যায় এসবি অফিসে তথা পুলিশ এর গোয়েন্দা সংস্থ্যার কাছে। আপনার দেয়া থানা অনুযায়ী আপনার তথ্য চলে যাবে পুলিশের কাছে। পুলিশ আপনাকে যেকোনো সময় কল দিতে পারে। যেমন আমি সকল কাজ সম্পন্ন করার ২দিন পর পুলিশ কল দেয় আবার আমার এক বন্ধুর বায়োমেট্রিকের ১ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের কল চলে আসে।

যারা নতুন তাদের বর্তমান ও স্থায়ী দুই যায়গাতেই ভেরিফিকেশন হবে। দুই যায়গার ভেরিফিকেশন একদিন আগে পরে বা একটু বেশি সময় নিয়েও হতে পারে। তবে সাধারনত ১২-১৪ দিনের ভেতর সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর ও যদি না হয় তাহলে আপনার নিকটস্থ এসবি অফিসের নাম্বারে কল দিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

যাদের পূর্বের পাসপোর্ট আছে আর ঠিকানা সেম তাদের ভেরিফিকেশন হবে না।

৫. পাসপোর্ট হাতে পাওয়া।

পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেই অনলাইনেই আপনার পাসপোর্ট এর স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। যেখানে এপ্রুভ চলে আসবে। আর এপ্রুভ এর কয়েকদিনের ভেতর ই আপনার পাসপোর্ট রেডি হয়ে শিপড হয়ে যাবে। অর্থাৎ পাসপোর্ট আপনার আঞ্চলিক অফিসে চলে আসবে। এরপর তারা আপনাকে ইমেইল এবং মোবাইলে এস এম এস পাঠিয়ে আপনার পাসপোর্ট কালেক্ট করতে বলবে।

এবার আপনার ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে চলে যান পাসপোর্ট অফিসে আর নিয়ে আসুন আপনার কাঙ্ক্ষিত ই পাসপোর্ট।

কোন তথ্য ভুল বা মিসিং থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারেন। চেষ্টা করবো আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে। ধন্যবাদ!

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close