জাতীয়
Trending

কিভাবে নিজে নিজেই ই পাসপোর্ট এর আবেদন করবেন

পাসপোর্ট এর জন্য নিজে নিজেই কিভাবে আবেদন করবেন? সম্প্রতি বাংলাদেশ চালু হয়ে গেল ডিজিটাল ই পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা। অনেকদিন ধরে চালু হয় হয় করে অবশেষে গত মাসের ২২ তারিখে ই পাসপোর্ট সেবা চালু করা হয়।  প্রাথমিকভাবে ২২ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হচ্ছে।

তথ্য মতে, জার্মানিতে ২ মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে। ফলে আগে আবেদনকারীরা জার্মানির তৈরি পাসপোর্ট পাবেন। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের জন্য ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ডিআইপি এবং ভেরিডসের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট গত বছরের জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সে তারিখ কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। এর আগে ২৮ নভেম্বর থেকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট চালু হবে বলে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেন। এরপর প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিআইপি) তৈরি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদফতর। বর্তমান এমআরপি ব্যবস্থা থেকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন।

সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য!

সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে। এই চিপ পাসপোর্টের একটি বিশেষ পাতার ভেতরে থাকবে। এই পাতা সাধারণ পাতার চেয়ে মোটা হবে। চিপে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাসপোর্ট বহনকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। এতে করে একজনের নাম–পরিচয় দিয়ে অন্য নামে পাসপোর্ট কেউ করতে পারবে না। এই পাসপোর্ট নকল হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় ই–পাসপোর্টে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও থাকছে বেশি। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে, যার অনেক বৈশিষ্ট্য থাকবে লুকানো অবস্থায়। ই–পাসপোর্ট করার সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) ডেটাবেইসে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে।

অবশেষে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) দেওয়া শুরু হয়েছে।

সাধারণ পাসপোর্টের মতো ই–পাসপোর্টের আবেদনও অনলাইনে করা যাচ্ছে। চাইলে পিডিএফ ফরম ডাইনলোড করে হাতেও পূরণ করা যাবে। ফরম পূরণের সময় ছবি ও সত্যায়ন করা লাগবে না। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি নেওয়া হবে। সেই সব তথ্য চিপে যুক্ত হবে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ যন্ত্রের সামনে পাসপোর্টের পাতাটি ধরতেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ই–পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সূত্র জানায়, ই–পাসপোর্ট হবে দুই ধরনের। একটি ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরির জন্য ফি হবে তিন ধরনের। এবার দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। এ জন্য ফিও বেশি গুনতে হবে।

চলুন দেখে নেই কিভাবে আবেদন করবেন!

খুব সহজে মাত্র ৫ ধাপে সম্পন্ন করুন আপনার ই পাসপোর্ট এবং হাতে পেয়ে যান দ্রুত।

১। প্রথমেই দেখে নিন আপনার এরিয়ায় ই পাসপোর্ট চালু হয়েছে কি না।
২। এবার অনলাইনে আপনার ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করুন। (আবেদন প্রকৃয়া নিচে দেয়া হলো)
৩। পাসপোর্ট এর জন্য নির্দৃষ্ট ফি প্রদান করুন।
৪। সময়মত পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আঙ্গুলের ছাপ আইরিশ স্ক্যান ও ছবি তুলে আসুন।
৫। আপনার ই পাসপোর্ট নির্দৃষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করুন।

কিভাবে অনলাইনে আবেদন করে শিডিউল নিবেন

প্রথমেই এই লিংক এ ক্লিক করে ই পাসপোর্ট এর ওয়েবসাইটে ঢুকুন। https://epassport.gov.bd/
সাইটে ঢুকে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন করুন মানে আপনার একটি আইডি খুলবেন। মেইল আইডি দিবেন সঠিক ভাবে সেখানে লিংক যাবে activation এর জন্য।

এবার আপনার ইমেইল থেকে মেইল এ দেয়া লিংক ক্লিক করে একাউন্ট ভেরিফাই করে একটিভ করে নিন।

একটিভ হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপ, এপ্লাই অনলাইন এ ক্লিক করুন আর যদি ফর্ম ডাওনলোড করে করতে চান তবে তাও করতে পারবেন।
এবার এপ্লাই অনলাইনে ক্লিক করার পর সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করবেন, শেষ ধাপে অনলাইন পেমেন্ট এর অপশন আসবে (এটা একবার ই আসে, তাই সাবধানে করবেন) অনলাইন পেমেন্ট এর জন্য Bkash, Master Card, etc. সহজ।

পাসপোর্ট এর পেজ ৪৮/৬৪ এবং মেয়াদকাল ৫/১০ বছর অনুযায়ী, এবং জরুরী বা স্বাভাবিক এর ভিত্তিতে টাকার পরিমান আসবে, সেই অনুযায়ী টাকা দিবেন, অথবা ব্যাংক এ ( Trust, One Bank),

যা যা লাগবেঃ
১. অনলাইন আবেদনের PDF প্রিন্ট করে ( খেয়াল রাখবেন যেন বারকোড আসে)
২. NID ফটোকপি ( অরিজিনাল নিয়ে যেতে হবে) অরিজিনাল NID ছাড়া আবেদন পত্র জমা নিচ্ছেনা ১৮+ হলে)
৩. অফিস/ স্টুডেন্ট আইডি কপি ( অরিজিনাল নিয়ে যেতে হবে) পেশা পরিবর্তন করলে বা যোগ করলে)
৪. পেমেন্ট এর স্লিপ ( ব্যাংক পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে, অনলাইনে দিলে লাগবেনা)
৫. Appointment এর প্রিন্ট কপি ( মেইলে আসবে)
৬. পূর্বের পাসপোর্ট থেকে যদি কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চান সমর্থন যোগ্য দলিলাদি। ( রিনিউ এর ক্ষেত্রে) এসব নিয়ে, শিডিউল অনুযায়ী চলে যাবেন পাসপোর্ট অফিসে ( একটু আগেই যাবেন, ফাকা থাকে) সরাসরি ৪০১ নম্বর রুমে। বাকিটা ওরাই করে দিবে।

[/padding]

 

এবার আসুন জেনে নেই কি কি ঝামেলা হতে পারে যা ওয়েবসাইটে আপনাকে বলে দিবে না।

১. অবশ্যই NID CARD, পুরনো পাসপোর্ট (রিইস্যুর ক্ষেত্রে), বার্থ সার্টিফিকেট এবং আরো আনুষাঙ্গিক কাগজাদি সাথে নিয়ে যাবেন । আসল এবং ফটোকপি দুটো ই ।
২. অনেকেই ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করার পর ফাইনাল প্রিভিউটাকে ব্রাউজার থেকেই প্রিন্ট দিয়ে দেন । আমিও এটা করেছি । কিন্তু এটা করলে হবে না। আপনাকে আপনার ইমেইল এড্রেসে একটা মেইল করা হবে এটাচমেন্টে আপনার পূরণ করা আবেদন ফর্ম সহ যার ১ম পৃষ্ঠার একদম নিচে একটা বারকোড থাকে যেটা ব্রাউজার থেকে প্রিন্ট দিলে থাকে না। উক্ত বারকোড আপনার প্রিন্টেড আবেদন ফর্মে না থাকলে ওরা আবেদন গ্রহণ ই করবে না । এটা মাথায় রাখবেন।
৩. যাদের বয়স ১৮+ কিন্তু NID কার্ড নেই বা এপ্লাই করেছেন, শুধু স্লিপ আছে । তাদের আবেদন নেয়া হবে না । এক্ষেত্রে NID CARD সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে আপনাদের বিদেশ গমন বা ইমার্জেন্সী কেসে দেয় এমন ২ মাসের জন্য টেম্পোরারি একটা কার্ড উঠাতে হবে এবং সেটা সাথে নিয়ে আবেদন দিতে যাবেন । কোন ভোটার স্লিপ/Online NID slip ওরা গ্রহণযোগ্য হিসেবে নেয় না ।


৪. ১৮- বয়সীদের ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেট তো লাগবেই এবং এখন বার্থ সার্টিফিকেট অনলাইনে চলে আসছে । যদি আপনার বার্থ সার্টিফিকেট অনলাইনে না এসে থাকে সেক্ষেত্রে আজ ই সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন । তবে NID যাদের আছে তাদের বার্থ সার্টিফিকেট অনলাইনে না থাকলেও আবেদন নিবে কিন্তু সামনে অনলাইনে বার্থ সার্টিফিকেট থাকা লাগবে এম্বেসী ফেস করার সময় ।সো, বেটার হয় অনলাইনে বার্থ সার্টিফিকেটের তথ্য তুলে ফেলার ব্যবস্থা করুন ।
৫. কোন তথ্য সংশোধন করার থাকলে ঘাবড়াবেন না । ওখানে বলে দিলে ওরা সংশোধন করে দিবে । সমস্যা নেই ।
৬. শুধু সাদা শার্ট বা সাদা কিছু পরিধান করে যাবেন না। কারণ ছবি তোলার ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা ।

দয়া করে তারাহুরা করবেন না, ধৈর্য্য ধরে সব করবেন, দালাল ধরার চিন্তাও করবেন না প্লিজ।
সবাই কাজের জন্যই যায়, সারিবদ্ধভাবে কাজ শেষ করবেন।
আর কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে প্রশ্ন করতে পারেন৷
ধন্যবাদ বাংলাদেশ সরকার 🤗

মুজিব বর্ষে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উপহার ই পাসপোর্ট. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সকল তথ্য একত্রে আমরা আপনাদের কে দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিনিয়ত আপডেট পেতে আমাদের সাইটে ভিজিট করুন , আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্এরুপ এ একটিভ থাকুন এবং আরো কি জানতে চান আমাদের কে কমেন্টে জানান।
ধন্যবাদ!
আমাদের ফেসবুক পেজ এবং ফেসবুকে গ্রুপ

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close