শিক্ষাঙ্গনলাইফ স্টাইল

কিভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করবেন

বিদেশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করার জন্য বা ভিসার জন্য অনেক সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে দরকার হয়। কিন্তু পুলিশ মানেই নতুন বিড়ম্বনা।

কিন্তু এখন থানায় দৌড়াদৌড়ি, দালাল ধরা এসবের দরকার হয়না। আপনি চাইলে নিজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

চলুন শুরু করা যাক।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ

০১। ছবি
০২। পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি, সাইজ ২০০কেবি (প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত)
০৩। এনআইডি/ জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত ফটোকপি, সাইজ ২০০ কেবি
০৪। ওয়ার্ডকাউন্সিলের/চেয়ারম্যানের চারিত্রিক সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, সাইজ ২০০কেবি।
০৪। চালান কপি (বাংলাদেশ ব্যাংক/ সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখা থেকে (১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১) কোডে করা ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা মূল্যমানের ট্রেজারী চালান অথবা অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত সার্ভিসচার্জ সহ ফি প্রদান।)

শর্তাবলীঃ

০১। আবেদনকারীর পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী কিংবা বর্তমান ঠিকানার যে কোন একটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন / জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত হতে হবে এবং আবেদনকারীকে/ যার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই ঐ ঠিকানার বাসিন্দা হতে হবে ।
০২। বিদেশে অবস্থানকারী কোন বাক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক পাসপোর্টের তথ্য পাতার সত্যায়িত কপি তার পক্ষে করা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে ।
০৩। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এম আর পি) এর ক্ষেত্রে যদি পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকে তবে ঠিকানার প্রমাণ স্বরূপ জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র/স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর সনদপত্রের ফটোকপি ১ম শ্রেণীর সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে ।

আবেদনের নিয়মাবলীঃ

০১। অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে যে কেউ নিজের জন্য অথবা অন্যের পক্ষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে পারবে।

নিবন্ধন করার জন্য এখানে যান ক্লিক করুন>

০২। নিবন্ধিত ব্যবহারকারী অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সাইটে লগ-ইন করার পর Apply মেনুতে ক্লিক করে আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করুন।।
০৩। আবেদন ফরমের প্রথম ধাপে ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য, দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করুন। আপনার বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত সেই ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।

এখানে Delivery Type > By Hand দিবেন। তাহলে আপনি নিজে গিয়ে এসবি অফিস থেকে কালেক্ট করতে পারবেন, কিন্তু যদি By Post সিলেক্ট করেন তাহলে তারা কবে পাঠাবে আর আপনি কবে হাতে পাবেন তার ঠিক নেই।


আরোও পড়ুনঃ রেফারেন্স লেটার বা সুপারিশপত্র কোথায় পাবেন


০৪। আবেদন ফরমের তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় ডকুমেণ্টসমূহের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
০৫। আবেদন ফরমের চতুর্থ ধাপে আপনার এন্ট্রিকৃত সকল তথ্য দেখানো হবে। আবেদনে কোন ভুল থাকলে তা পূর্ববর্তী ধাপসমূহে ফেরত গিয়ে পরিবর্তন করা যাবে। তবে চতুর্থ ধাপে আবেদনটি সাবমিট করার পর আর কোন পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না।
০৬। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন ফি পরিশোধ করার জন্য Pay Offline বাটনে ক্লিক করুন। চালানের মাধ্যমে ফি পরিশোধের উপায় এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে Instruction ফলো করুন।
০৭। এবার চালান কপি আপলোড করুন।

চালানের মূল কপিটি আপলোড করার পূর্বে অবশ্যই এর উপর এপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বরটি লিখে দিন। তা নাহলে আপনার পেমেন্টটি গ্রহণযোগ্য হবেনা এবং আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে।
অনলাইনে সাবমিট করার পর আপনার কাজ আপাতত শেষ। আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি নিয়ে রাখুন, সাথে যে সকল ডকুমেন্টস আপলোড করেছেন তার কপি রাখুন।

আপনার পেমেন্ট গ্রহন করা হলে কয়েকদিনের মধ্যেই থানা থেকে কল আসবে ভেরিফিকেনের জন্য। আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে থানায় যান বা তাদের ইনস্ট্রাকশন ফলো করুন।
বেশির ভাগ সময়েই ঘুস ছাড়া কাজ করতে চায় না। যদি আপনি কারো রেফারেন্সে ঘুস না দিয়ে পারেন, সেটা আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট।
যারা ঢাকায় থাকেন তাদের অনলাইনে আবেদনের সাত দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট পেতে পারেন আর ঢাকার বাইরে যারা তারা ১৫ দিনের মধ্যে।
তবে আবেদন সঠিক ভাবে করুন, চালান কোড, রেফারেন্স নং সঠিক ভাবে লিখুন।

যেকোনো সময় ম্যাসেজের মাধ্যমে আপনার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে PCC S এর পর আপনার আবেদনের রেফারেন্স নম্বর লিখে পাঠান 26969 নম্বরে বা আপনার অ্যাকাউন্টে লগিন করে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।

সবার জন্য শুভকামনা

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close